ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে 'জাস্ট ফ্রেন্ড' নামে 'হাতাহাতি' প্রথা চলছে। অনেকে আমার কথায় রাগ করবে। অনেকে এর আগে ইনবক্সে নক করে বলেছে "ভাইয়া, হাত ধরা কি খারাপ কাজ? আমরা তো 'ফ্রেন্ড' হিসেবেই হাত ধরি" গত তিরিশ বছর আগে ছেলে-মেয়ে যেখানে ক্লাস রুমেও কথা বলতে লজ্জা পেত, গত বিশ বছর আগে প্রেমিক প্রেমিকার গায়ে ছুতেও অনেক লজ্জা পেত সেখানে আজ ক্লাস মেটের নাম করে ছেল মেয়েরা একে অপরের গায়ে হাত দিচ্ছে, টাচ করছে, এর নাম প্রগতীশীলতা। এর বিরুদ্ধে কথা বলতে গেলে আপনি হবেন রুচীহীন, হীন মন্য, ক্ষ্যাত। এই 'জাস্ট ফ্রেন্ড' কালচার শুরুর উদ্দেশ্য একটাই- হাতাহাতির 'বৈধতা'। অর্থাৎ একটা মেয়ের গায়ে ইচ্ছা হলেই আপনি হাত দিতে পারবেন না, তার প্রেমিক হলে পারবেন, শুধু হাত দিতেই না অনেক কিছুই করতে পারবেন। কিন্তু তাও তো মাত্র একজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ। কিন্তু জাস্ট ফ্রেন্ড হলে আপনি আপনার ক্লাসের প্রায় সব মেয়ের গায়ে যখন তখন বিভিন্ন উছিলায় হাত দিতে পারবেন। ধরুন ক্লাসের একটি মেয়ের গায়ে আপনি হাত দিতে চাচ্ছেন, মেয়েটা দেখতে অনেক সুন্দরী, কিন্তু তার সাথে আপনি প্রেম করতে পারছেন না। তাহলে 'জাস্ট ফ্রেন্ড' হবার উছিলায় তার সাথে হ্যান্ডশেক করলেন। ব্যস, হাত ছয়াছোয়ি হয়ে গেল। তার হাতের ঘড়ি দেখার উছিলায় হাত ধরে বলবেন "তোর ঘড়িটা তো অনেক সুন্দর!" এরপরে মেয়েটির হাত ধরেই দশ মিনিট ধরে সেই ঘড়ি নিয়ে গবেষনা করতে পারবেন। কেউ বাঁধা দিবে না, মেয়েটিও না, মেয়েটিও তো মজা পাচ্ছে। সে বাঁধা দিবে কেন? আগে শুধু হাত ধরাধরি করা হত। এখন যুগ এক ধাপ এগিয়ে গেছে। এখন হাতের সাথে যোগ হয়েছে 'হাগ'! এই 'হাগ' শব্দটার সাথে 'হাগা' শব্দের যথেষ্ঠ মিল থাকলেও হাগার সাথে হাগের কোন সম্পর্কই নেই। হাগ মানে কোলাকোলি যা আমরা ঈদের দিনে ছেলেরা-ছেলেয়া ও মেয়েরা-মেয়রা করে থাকে। অথবা বিয়ের পরে স্বামী স্ত্রী নিয়মিতই করে থাকে wink emoticon সেই 'হাগাহাগি থুক্কু হাগ প্রথা এখন দেশে চালু হয়েছে। অর্থাৎ ঈদ পুজা পার্বণ পূর্ণিমা (নায়িকা পূর্ণিমা না, বৌদ্ধ পূর্ণিমা) ছাড়াও যেকোণ দিনে একে অপরের সাথে কোলাকোলি করে। কিন্তু কথাটা এখানেও সীমাবদ্ধ থাকত যদি না ছেলে-ছেলে, মেয়ে- মেয়ে কোলাকোলি করত। সমস্যা হল, এসব হাগের ক্ষেত্রে ছেলে-মেয়ে হচ্ছে অর্থাৎ চার জন ছেলে ও পাঁচ জন মেয়ে 'জাস্ট ফ্রেন্ড' এক সাথে হলে ছেলে-মেয়ে হাগ করে আর সম লিঙ্গের মধ্যে 'খুব বেশি হলে' হ্যান্ডশেক এর ঘটনা ঘটে! অর্থাৎ এখানে রয়েছে পুরাই শরীরের টান!!! অর্থাৎ ক্লোজ আপের মত "কাছে এসো কাছে এসো" অথবা এয়ারটেলের মত "ভালোবাসার টানে খাটে আনে থুক্কু কাছে আনে" বাংলায় হাগের ইতিহাসঃ আজ থেকে দশ/এগার বছর আগের ঘটনা। তখন ইন্ডিয়ান আইডল নামের এক গানের প্রতিযোগীতা বাংলাদেশে খুব জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানেরি আমরা প্রথম দেখতে পেলাম ছেলে-মেয়েরা হাগ করছে অর্থাৎ কোলাকোলি করছে। সেই কোলাকোলির অনুষ্ঠান দেখার দুই বছর পরে অর্থাৎ ২০০৫/৬ এর দিকে আমি ধানমন্ডী এলাকায় প্রথম হাগের ঘটনা দেখি। ধানমন্ডী পারসোনা যেই বিল্ডিং এ অবস্থিত সেই বিল্ডিং এ একটি গার্মেন্টস গ্রুপ 'ডেকো গ্রুপের' হেড অফিস। সেই বিল্ডিং এর সামনে দেখলাম তিন ছেলের সাথে এক মেয়ের দেখা। মেয়েটি তার এক জাস্ট ফ্রেন্ডের সাথে রিকশায় যাচ্ছিল। তিন ছেলেকে দেখে মেয়েটা রিকশা থামাল। মেয়েটাকে রিকশা থেকে নামাতে সাহায্য করল তিন ছেলের এক ছেলে। ছেলেটা মেয়েটাকে হাত ধরে নামাল। ভাব দেখে মনে হল- এই মেয়ে মনে হয় জীবনেও রিকশায় চড়েনি, অথবা মারাত্মক অসুস্থ রোগী, হাত না ধরে রিকশা থেকে নামানো যাবেনা। আসলে মূল উদ্দেশ্য ঐ একটাই- মেয়েটার হাত ধরা। আর 'জাস্ট ফ্রেন্ড' হিসেবে এভাবে হাত ধরা ছেলেটির অধিকার (!) অথচ এক সময় শুধু মেয়ের প্রেমিক ই মেয়ের হাত ধরার অধিকার পেত, যদিও এটাও অবৈধ। মেয়েটা রিকশা থেকে নেমে ছেলে দুটির সাথে তিরিশ সেকেন্ড কথা বলল। এরপরে রিকশায় ওঠার আগে তিন ছেলের সাথে 'হাগ' অর্থাৎ কলাকোলি করল। আমি তখন বিয়ে করিনি, কোলাকোলির পার্টনার নেই। আমারও ইচ্ছে হল- গিয়ে মেয়েটার সাথে 'হাগ' করে বলি "ঈদ মোবারক"!! মেয়েটি চলে গেল। এরপরে তিন ছেলেও দুই দিকে চলে গেল। কিন্তু ছেলেরা বিদায় হবার সময় কেউ কারো সাথে 'হাগ' করল না। অর্থাৎ হাগ শুধু বিপরিত লিঙ্গের জন্য বরাদ্দ!!! কথা ঐ একটাই- ছোয়াছোয়ি! সেই মেয়েটাকে তখন দেখে মনে হয়েছিল ধনীর মেয়ে, পোষাক আষাকে তাই মনে হচ্ছিল। তখন এইসব ছোঁয়াছুঁয়ির খেলা শুধুমাত্র ধনীর ঘর পর্যন্তই সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এখন তা মধ্যবিত্ত পর্যায়ে চলে গেছে। ধানমন্ডী, বনানীর বিভিন্ন প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির সামনে আপনি যদি এক ঘন্টা দাঁড়িয়ে থাকেন তাহলে মিনিমাম পাঁচটা হাগের ঘটনা দেখতে পাবেন।

Comments

Popular posts from this blog

মঙ্গল শব্দের অর্থ কি ?

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এয়ারপ্লেন মোড সর্ম্পকে জানুন

এসো হে বৈশাখ

কেন বিচ্ছেদের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তনকে ব্লক করা উচিত ?

মূল্যমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০ মুদ্রা

জরুরী হেল্পলাইন সেবা

ভার্চুয়াল জীবনের গোধূলীবেলায়