যেভাবে এলো বাংলা নববর্ষ
বাংলা সন এসেছে হিজরি
সাল থেকে। এর প্রবর্তক
বাদশাহ আকবর। আবিস্কারক
ফতেহ উল্লাহ। বঙ্গাব্দকে
বলা হত ফসলি সন। ফসলের
খাজনা আদায়ের
সুবিধার্থেই এর উদ্ভব।
খাজনাদাতা কৃষকরা সাশ্রয়
ও স্বাস্থ্যের জন্য পান্তা
খেতেন। ব্যবসায়ীরা
হিসেবের হালনাগাদ করতেন
নতুন বছরের সূচনায়।
হালখাতার অংশ হিসেবে
দোয়া ও মিষ্টি মুখ করাতেন
গ্রাহকদের। এইতো ইতিহাস।
এটিই তো গোড়ার কথা।
পহেলা বৈশাখের উৎসব
করতে হলে, জাতিকে এক
কাতারে আনতে এসব বা
এধরনের কিছু দিয়েই তো
হতে পারত। তাহলে কেউ
আপত্তি করত না। কিন্তু এই
তথ্য বিপ্লবের যুগে ইতিহাস
ভুলিয়ে রেখে পহেলা
বৈশাখের নামে আমাদের
বিজাতীয় অনেক কিছু
গেলানো হচ্ছে। ইসলাম
সবচেয়ে বেশি কঠোর যে
শিরক ও মুশরিকদের আদর্শ
গ্রহণের বিরুদ্ধে তা-ই
গিলতে বাধ্য করা হচ্ছে
ভিন্ন নামে। আমরা জেনে
বুঝে সেই ইতিহাস
বিকৃতিকে মেনে নেই
কিভাবে? আমি ভালো
মুসলিম তো বটেই, ভালো
বাঙালী হলেও তো চারুকলা-
ছায়ানটের বৈশাখি
আয়োজন মেনে নিতে পারি
না। তিরিশ বছর আগে চালু
করা জিনিসকে তারা
ঐতিহ্য আর আবহমান বললেই
তো মানতে পারি না।
এদেশে এখনও ইতিহাসের
লোক আছেন, তারা কি
আমাদের আপত্তিগুলোতে
একমত না হয়ে পারবেন?
অনেক বাম ইতিহাসসচেতন
ব্যক্তিও একমত প্রকাশ
করতেন, শুধু তাদের আদর্শিক
শত্রু ইসলামপন্থীদের সঙ্গে
মিলে যাবে বলে কথা বলেন
না। এই সুযোগে এক অসাধু
মহল মঙ্গলযাত্রা, মুখোশ আর
দেবী লক্ষ্মীর বাহন দিয়ে
মঙ্গল আহ্বান শেখাচ্ছে
বাঙালী মুসলমানকে।
বাঙালী মুসলমান তো রোজ
পাঁচবার আল্লাহর ঘরে
মঙ্গলের যাত্রা করে।
প্রতিটি রাকাতে সমূহ
কল্যাণ আর মঙ্গল প্রার্থনা
করে। তিরিশ লাখ মা-
বোনের রক্তে কেনা
স্বাধীনতা অর্জনের পর
ইতিহাসবিকৃতির এমন প্রয়াস
অবিশ্বাস্য। দুঃখজনক। আমি
মনে করি মুক্তিযুদ্ধের
চেতনার সরকারের উচিত,
হাজার বছরের ইতিহাস
বিকৃতির এই হীন আয়োজনের
বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া।
জাতিকে আরোপিত উৎসব
অনুষঙ্গে না টেনে
স্বতঃস্ফূর্ত ও সাদা মনের
আনন্দে উদ্বুদ্ধ করা।
Comments
Post a Comment