মুখোশের বয়ান - ০৯ [ বিশেষ দ্রষ্টব্য ]

#বিশেষ_দ্রষ্টব্য ......!! মুখোশের বয়ান নবম অংশে আমি বিটিভি-র সাবেক ডিজি, জনাব একেএম হানিফের রবাত দিয়ে লিখেছিঃ “কিন্তু মজার ব্যপার কী জানো! আমি যখন ডিডিজি নিউজ হলাম তিনি সুপারিশ পাঠালেন তাঁর মেয়ে জামাই কে সংবাদ পাঠক হিসেবে এনলিস্ট করার জন্য। তৎকালীন তথ্যমন্ত্রীর সাথে দিনরাত তদবীর করে তাঁকে আমরা সংবাদ পাঠক হিসেবে ঢুকাই। প্রচুর সমলোচনা হয়। কারণ সে ছিল পরিচিত মুখ এবং কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক সম্পাদক। আমাদের মুখ রক্ষা হয় কারণ সে ছিল সংবাদ পাঠক হিসেবে খুবই যোগ্য। অল্পদিনে নিউজ সেকশনের সবার সাথে তাঁর খুব ভাব হয়ে যায়। তাঁর মোলায়েম আচরণে সকলে মুগ্ধ হয়। আচ্ছা তুমি বল, সে যে সংবাদ পাঠ করেছে সেখানে কী সব সময় ঈদের নামাজ আর মিলাদ মাহফিলের খবর ছিল? সেখানে খেলার খবর ছিল, দুর্গা পুজা, কালী পুজা এমনকি হয়তো বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতার খবরও ছিল । স্ক্রিপ্টে যা লিখা ছিল তাঁকে তাই পড়তে হয়েছিল। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে সে যে খবর পড়ে সম্মানী পেয়েছে তাঁর সেই আয় কী হালাল ছিল ? টেলিভিশনে খবর পড়ে সে যে তাঁর যোগ্যতার সাক্ষর রেখেছে। সেখানে তাঁর আচার আচরণে অন্যদের মধ্যে যে নৈতিক প্রভাব পড়েছে। জাতীয় পর্যায়ে তাঁর যে একটা স্বীকৃতি হয়েছে, এবং এটার কারণে সারাদেশে তাঁর যে একটা সেলিব্রেটি ইমেইজ তৈরি হয়েছে তাঁর সুফল কী আন্দোলন পায়নি? আমি যতটুকু জানি তাঁর হাত ধরে শত শত ছেলে মিডিয়ায় তাঁদের ক্যারিয়ার করেছে। তাঁর কণ্ঠে অর্থ সহ কোরআনের অডিও বাংলাদেশে বেস্ট সেলার এবং জনপ্রিয়। সে এখন জাতীয় মাণের একজন শিল্পী, অনেকের কাছে আইডল। এর পেছনে তাঁর বিটিভি ক্যারিয়ারের অবদান কী কম? ” #এই বয়ানের একটি বিশেষ অংশ সম্পর্কে বিটিভি-র এককালীন জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক, বিশিষ্ট কণ্ঠ শিল্পী ও সুরকার শ্রদ্ধেয় সাইফুল্লাহ মানসূর কিছু সংশোধনী জানিয়েছেন। পাঠকের সদয় অবগতির জন্য তা এখানে উল্লেখ করা হলোঃ #জনাব সাইফুল্লাহ মানসূর বলেন: "আমি বিটিভি তে নিউজ পড়া শুরু করি ১৯৯৫ সাল থেকে।তখন ডিডিজি নিউজ ছিলেন মরহুম ফারুক আলমগীর, সে সময় একেএম হানিফ ছিলেন নিউজ এডিটর। তার প্রায় ১০ বছর পর মরহুম জনাব হানিফ সাহেব ডিডিজি নিউজ হন।তাকে তদবির করে আমার সংবাদ পাঠক বিষয়ক টেলিভিশনে যুক্ত হওয়া সম্পূন' ভুল তথ্য।মৃত ব্যক্তি সম্পকে' যে কোন তথ্য দেয়ার আগে আরো যাছাই বাছাই করা জরুরী। আল্লাহ আমাদের ক্ষমা করে দিন।আমিন। #একই প্রসঙ্গে জনাব নাজিব মোমেন লিখেছেনঃ জামাই এর চাকরী: সবচেয়ে হাস্যকর বিষয় হলো হানিফ সাহেবের কাছে নাকি শহীদ আমীরে জামায়াত তার জামাই এর চাকরীর জন্য সুপারিশ করেছেন। আর তিনি তৎকালীন তথ্য মন্ত্রীর কাছে অনেক দেন দরবার করে চাকরী যোগাড় করে দিয়েছেন। ১মত মরহুম হানিফ সাহেবের পজিশন তখন বিটিভিতে কি ছিল তখন আর শহীদ আমীরে জামায়াতের পজিশনইবা কি ছিল? বড় ভাই বলেছেন হানিফ সাহেব ছিলেন বিটিভির ডিজি নিউজ, এটা ঠিক তথ্য নয় তিনি তখন একজন সাব এডিটর ছিলেন মাত্র। উনার উপরের আরও অনেক কর্মকর্তা, সহকারী সচিব, সচিব সবাইকে ডিঙ্গিয়ে তিনি মন্ত্রীর সাথে সরাসরি তদবীর করেছেন, এটা কি কোন ডেকোরামে পড়ে? শহীদ আমীরে জামায়াত তখন এম,পি এবং জামায়াতের সংসদীয় দলের নেতা। আমরা ১৯৯২/৯৩ সালের কথা বলছি যখন সদ্যই জামাতের সমর্থনে বি এন পি ক্ষমতায় এসেছে। সে সময় তথ্য মন্ত্রী ছিলেন নাজমুল হুদা। এখন এই ব্যাক্তির অবস্থান যাই হোক, এই ভদ্রলোক সেই সময় জামায়াতের সাথে ভালই সম্পর্ক রাখতেন, শহীদ আমীরে জামায়াতের সাথেও তার বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। সংসদে তিনি অধ্যাপক গোলাম আজম সাহেবের নাগরিকত্ব নিয়ে অনেক ভাল ভাল কথা বলেছেন যার রেকর্ড এখনো খুজলে পাওয়া যাবে। শহীদ আমীরে জামায়াতকে করা তার অসংখ টেলফোন কল ছোটবেলায় আমি নিজেই রিসিভ করেছি। সেই ব্যাক্তির কাছে তিনি বিটিভির একজন সাব এডিটরকে পাঠিয়েছেন নিজের জামাই এর চাকরীর সুপারিশ করতে? গাজাখুরী গল্পের একটা সীমা থাকা দরকার। উনার লেখাতেই প্রমান আছে সাইফুল্লাহ মানসুর জনপ্রিয় সংবাদ পাঠক ছিলেন। শহীদ আমীরে জামায়াতের জামাই হওয়ার আগে থেকেই তিনি রেডিওতে সংবাদ পড়তেন। উনার নিজের আম্মাও সেই সময় একজন এমপি ছিলেন। উনার বিএনপি আর আওয়ামী লীগে এত হাইপ্রোফাইলের আত্নীয় স্বজন আছেন যে, তদবীর করে সংবাদ পাঠক হতে চাইলে একজন নিম্নপদস্থ ডিজির দারস্থ হওয়ার তার কোন দরকার হতোনা। বরং ইতিহাস সাক্ষী, জামাই হওয়ার কারনেই অনেক ক্ষেত্রেই তাকে অবিচারের স্বীকার হতে হয়েছে। তদবীর আর শ্বশুরের জোরেই যদি উনাকে সংবাদ পাঠকের পদ পেতে হয়, আমাদের টিভি বলে কথিত এই বড় ভাইয়ের টিভি চ্যানেলে সাইফুল্লাহ মানসুর সংবাদ পাঠক হিসাবে কোন সুযোগ পেল না কেন? সেখানেও তো মরহুম হানিফ সাহেব বড় পোষ্ট হোল্ড করতেন বলে জানি। আলহামদুলিল্লাহ শশুরকেও কখন অন্যায় সুপারিশ করতে হয় নাই। জামাই এরও শশুরের সুপারিশের দরকার হয় নাই। সকল প্রশংসা আল্লাহরই। প্রিয় পাঠক ও বন্ধুগণ, জনাব একেএম হানিফের প্রদত্ত তথ্যের স্থলে জনাব সাইফুল্লাহ মানসূরের দেয়া তথ্য এবং নাজিব মোমেনের তথ্য কে পূণস্থাপিত ও সংশোধিত আকারে পড়ার জন্য আপনাদের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইলো।

Comments

Popular posts from this blog

মঙ্গল শব্দের অর্থ কি ?

অ্যান্ড্রয়েড ফোনে এয়ারপ্লেন মোড সর্ম্পকে জানুন

এসো হে বৈশাখ

কেন বিচ্ছেদের পর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাক্তনকে ব্লক করা উচিত ?

মূল্যমানে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যয়বহুল ১০ মুদ্রা

জরুরী হেল্পলাইন সেবা

ভার্চুয়াল জীবনের গোধূলীবেলায়